পাঠের লিংক:
‘রইদ’ : সিনেমার ক্যানভাসে আদিম মনস্তত্ত্ব
‘হাওয়া’র অভূতপূর্ব সাফল্যের পর নির্মাতা মেজবাউর রহমান সুমন যেন দীর্ঘদিনের জন্য আত্মগোপনে চলে যান। অবশেষে সেই দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও নীরবতার প্রহর কাটিয়ে তিনি ফিরে আসেন তাঁর দ্বিতীয় নির্মাণ ‘রইদ’ নিয়ে।
‘রইদ’ আঁকড়ে ধরেছে তপ্ত মাটির ওপর বেঁচে থাকার প্রাগৈতিহাসিক লড়াইকে, আর ‘হাওয়া’র গল্প গড়ে উঠেছিল সমুদ্রের ঝোড়ো হাওয়া আর মানবীয় সংশয় ঘিরে। তপ্ত রোদে মাটির বুকে লেপ্টে থাকা রুক্ষ জীবনের এই গল্প মানুষের আদিম বাসনার নির্মোহ রূপক। সরাসরি চলচ্চিত্রটি দেখা, আন্তর্জাতিক উৎসবে প্রশংসিত নানা বিশ্লেষণ এবং বিশ্বস্ত সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে বলা যায়, ‘রইদ’ হচ্ছে সমাজের প্রচলিত মোহযুক্ত বিশ্বাস ও মেকি প্রথা ভাঙার দৃশ্যমান শিল্প। সাজানো সমাজের আড়ালে লুকিয়ে থাকে আদিম মনস্তত্ত্ব, প্রকৃতিবিরুদ্ধতা। সিনেমাটি মানুষের আদিম প্রবৃত্তি, ক্ষুধা ও প্রকৃতির সার্বভৌমত্বের এক পৌরাণিক রূপক হয়ে উঠেছে। গ্রামীণ সমাজ বাস্তবতার আড়ালে এখানে রয়েছে একটি কালোত্তীর্ণ ক্যানভাস।
বাকিটা পাঠের লিংক: রইদ সিনেমার আলোচনা
https://www.prothomalo.com/onnoalo
ছায়াশরীরের ভোজসভা
শেখ সাদির অমর গল্পটার কথা আপনাদের নিশ্চয়ই মনে আছে। পারস্যের বিখ্যাত কবি শেখ সাদি একবার অতি সাধারণ পোশাকে এক ধনকুবেবের ভোজসভায় গিয়েছিলেন। ছেঁড়া ও ধূলিমলিন পোশাক দেখে দারোয়ানরা তাঁকে ভেতরে প্রবেশ করাতে দ্বিধা করেছিল। অতিথিশালার মধ্যে তাঁর জন্য বরাদ্দ ছিল না কোনো সম্মানজনক আসন। খাবার যা দেওয়া হয়েছিল, তা-ও ছিল অবহেলার। সাদি কোনো কথা না বলে দস্তরখানায় নীরবে বসে পড়েন।
চারণ শিল্পী, পালাকার রিজু আহমেদের সংগ্রামী শিল্পজীবন
একজন মানুষ শিল্পী হয়ে ওঠে কী কারণে? নিশ্চয়ই তার মধ্যে থাকে অন্তরের প্রবল অভিব্যক্তি। শুধু পারিপার্শ্বিকতা বড়ো কথা নয়, এর বাইরেও থাকে নিজস্ব উপলব্ধি, প্রবল হার্দিক তাড়না। এই অন্তর্চেতনা স্বকীয়, সহজাত, অনেক সময় স্বীয় কালের অক্ষরে ভাস্বর। তবুও কথা থেকে যায়, মানুষ কি পাখির মতো গান গাইতে পারে? মানুষের কি স্বাধীন একটা সত্তা আছে, যা তাকে ফুলের মতো নিজের অনুভবকে প্রকাশ করায়, পাখির মতো গলায় সুমিষ্ট সুর চড়ায়? হয়তবা তা করতে পারে, এজন্যই শিল্পের জন্ম হয়। পুরাতন পৃথিবী চির নতুন হয়ে ধরা দেয়। অনেক শিল্পবোদ্ধা এটাকে প্রেরণা, স্বর্গীয় ধারণা ইত্যাদি নামে অভিহিত করে থাকেন। আবার অনেকে মনে করেন, শিল্প আসলে চর্চার ফসল। হয়তবা শিল্প একইসঙ্গে দুটোই, কিংবা তার ভেতরে কোনো শক্তি একটি বিশেষভাবে সক্রিয় হয়ে ওঠে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ আসলে কী?
- বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ আসলে কী? এর জন্য অনেক প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়।
- শুধু পাঠদান, ডিগ্রি প্রদানই কি এর মূল উদ্দেশ্য? নাকি আরও বিষয় আছে?
- বিশ্ববিদ্যালয় যে গবেষণা বা জ্ঞান উৎপাদন করে সেসব কি রাষ্ট্র ঠিক করে দেয়?
- নাকি
- বিশ্ববিদ্যালয়ই সমাজ ও রাষ্ট্রকে চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে বাধ্য করে কী করতে হবে?
‘রাষ্ট্র ও বিশ্ববিদ্যালয়’ আসলে পারস্পরিক বোঝাপড়া। “কী করতে হবে বা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ কী?” এই প্রশ্নের উত্তরের মাধ্যমেই বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন গবেষণার ক্ষেত্র তৈরি হয়। এতে লেখাপড়ার প্রকৃত উদ্দেশ্য সম্পর্কেও ধারণা আসে। রাষ্ট্র এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পর্ক তাই দ্বান্দ্বিক ও জটিল অর্থাৎ, কে কাকে চালিত করবে, এ-জবাব একদম ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’-র মাধ্যমে সরলভাবে দেওয়া সম্ভব নয়।
নজরুল আসলে কার?
সমাজ ও মানুষ মূলত পরিবর্তনশীল। তাদের মূল্যবোধ যেমন পালটে যায়, তেমনি সুবিধাবাদী ভোলও উলটে যায়। নজরুলের পথ মোটেও মসৃণ ছিল না। তাঁর কঙ্কর বিছানো পথে একদিন নিজেরাই তারা হোঁচট খেয়েছিল। কিন্তু তারাই আবার খননযন্ত্র হাতে নিয়ে সেই বন্ধুর পথ সমতল করতে ব্যস্ত। ভবিষ্যতের সমাজ এককালের ‘বিতর্কিত’ শিল্পীকে নিজস্ব আয়নার মুখোমুখি করতে চায়। এমতাবস্থায় এক ধরনের অদ্ভুত ও মজাদার মনস্তাত্ত্বিক রূপান্তর ঘটে। সমকালে সমাজ, রাষ্ট্র ও প্রতিষ্ঠান যাকে প্রতিনিয়ত দৌড়ের ওপর রেখেছিল, মহাকালে তাঁকেই সিংহাসনে বসিয়ে দেবতা বানানোর ধুম পড়ে যায়। কিন্তু কেন এই উত্তরসূরিরা পরবর্তী সময়ে স্ব-রুচির বাইরের শিল্পীকে ‘নিজের’ করে নেওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে? তেতো সত্য হচ্ছে— চারিত্রিক, মানসিক বা আদর্শিক দিক থেকে তারাই তো আগের সেই দমনকারীদের প্রতিরূপ !

