মির্জা গালিব, ইকবাল ও বাংলা গজল
আলাপ : দ্বিতীয় পর্ব
দারুণ এক জায়গায় আমরা থেমেছিলাম। জনাব তসলিম হাসানের বয়ানে আমরা জেনেছিলাম যে, গজল হচ্ছে আত্মার শূন্যতা, অন্তরের নিবিড় আর্তনাদ। কোনো নির্দিষ্ট ভাষার ব্যাকরণ কেবল নয় তা। রাজদরবারের আভিজাত্য চুঁইয়ে গজল এসে মিশেছে সাধারণ মানুষের যাপিত জীবনে, তাদের হাহাকারের সঙ্গে। এক্ষেত্রে দেশে দেশে পার্থক্য নেই। পারস্যের মরমী সুর আর বাংলার মাটির বৈষ্ণব পদাবলি একই সমান্তরালে প্রেম ও বিরহকে খুঁজেছে। সত্যিকার অর্থেই এটি আমাদের সাহিত্যের এক অনন্য অধ্যায়।
গজলের ওই যে ‘রেকতা’ বা লোকজ ভাষায় রূপান্তরের ইতিহাস, তা আজ আমাদের নতুন করে ভাবাচ্ছে। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়—আমির খসরু থেকে গালিব, ইকবাল কিংবা আমাদের নজরুল; তাঁরা কীভাবে এই বিরহী সুরকে আধুনিক জীবনে প্রতিস্থাপন করলেন? নাগরিক এক বিচ্ছিন্ন সময়ে, গজলের সেই ‘মরণ আর্তনাদ’ কি আমাদের নতুন কোনো আধ্যাত্মিক পথ দেখাবে? এ বিষয়গুলো ১ম পর্বে উঠে এসেছিল। এইসব গভীর জিজ্ঞাসা আর বাংলা গজলের বিবর্তনের বাকি পথটুকু নিয়ে আমরা ফিরছি আলোচনার দ্বিতীয় পর্বে। ততক্ষণ গজলের আচ্ছন্নতায় ডুবে থাকুক আমাদের মন।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন