শতবর্ষে মুসলিম সাহিত্য সমাজ : প্রসঙ্গ শিখা গোষ্ঠী



পাঠের লিঙ্ক : https://www.banglatribune.com

বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে ‘মুসলিম সাহিত্য সমাজ’-এর মুখপত্র ‘শিখা’ পত্রিকা ছিল এক ধরনের বুদ্ধিবৃত্তিক ঘোষণাপত্র। যুক্তি, আত্মসমালোচনা এবং ধর্মীয় ও সাহিত্যিক পুনর্বিবেচনার এক সাহসী পদক্ষেপ। ‘শিখা’ পত্রিকার শতবর্ষ উপলক্ষ্যে পত্রিকাটির ঐতিহাসিক ভূমিকা, সম্পাদকীয় দর্শন, তাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক অবস্থান এবং বাংলা সাহিত্যে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে ধারাবাহিক সাক্ষাৎকারের এ পর্বে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক খোরশেদ আলম। সার্বিক সহযোগিতা করেছেন হেমায়েত উল্লাহ ইমন ও শাহরিয়ার হিরাজ।


বাংলা ট্রিবিউন: মুসলিম সাহিত্য সমাজ গঠনের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট কী ছিল? এক্ষেত্রে তাদের মূল আদর্শ ‘বুদ্ধির মুক্তি’ তৎকালীন বাংলা সাহিত্য সমাজে কতটা ব্যতিক্রমী ছিল বলে আপনি মনে করেন?

খোরশেদ আলম: আপনি যদি ১৯২৬ সালের পরিস্থিতির দিকে তাকান, তবেই বুঝতে পারবেন যে, বাঙালি মুসলমান সমাজ তখন শিক্ষা ও সংস্কৃতির দৌড়ে ঠিক কতটা পিছিয়ে ছিল। আমি তো বলব, এটি ছিল আধুনিক শিক্ষাদীক্ষা আর বিশ্ব-বাস্তবতা সম্পর্কে পুরোপুরি অসচেতন থাকার ফল। আর ঠিক এই কারণেই সমাজের অগ্রবর্তী অংশ থেকে তারা ক্রমে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছিল।

এই নেতিবাচকতার পেছনে বড়ো একটা অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছিল ব্রিটিশ উপনিবেশ। বিজিত বা পরাজিত শক্তি হিসেবে হোক, আর ক্ষমতার কেন্দ্র থেকে দূরে থাকার কারণেই হোক—তারা আসলে নিজেদের মধ্যে একরকম গুটিয়ে যাচ্ছিল। রেশম পোকা কেন নিজের চারদিকে একটা সুরক্ষাবলয় গড়ে তোলে জানেন? নিজেকে বাঁচানোর জন্য। কিন্তু বাঁচতে গিয়ে তারা আসলে কী করে? অজান্তেই নিজেদের মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়। সেদিনের মুসলমান সমাজও ঠিক তাই করছিল। পু্রোনো ঐতিহ্যকে অন্ধভাবে আঁকড়ে ধরতে গিয়ে তারা ক্রমশ নিজেদের তৈরি এক কূপমণ্ডূকতার খাঁচায় বন্দি হয়ে পড়ছিল।

এখন এই যে একটা ভয়াবহ মানসিক ও সাংস্কৃতিক বন্ধ্যাত্ব তৈরি হলো, এটা তো কাটাতে হবে, তাই না? আর সেই দায়বদ্ধতা থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল সচেতন তরুণ একাট্টা হলেন। গড়ে তুললেন ‘মুসলিম সাহিত্য সমাজ’। তাঁদের নেতৃত্বে ছিলেন আবুল হুসেন, কাজী আবদুল ওদুদসহ আরও অনেকে। তবে একটা কথা এখানে পরিষ্কার করে নেওয়া ভালো—নামে ‘মুসলিম’ থাকলেও এই ‘মুসলিম সাহিত্য সমাজ’ ছিল মনেপ্রাণে আগাগোড়া অসাম্প্রদায়িক। তাঁদের সম্মেলনে উপস্থিত বিশিষ্ট ব্যক্তিদের বৈচিত্র্যময় তালিকাটা একবার দেখলেই আপনি সেটা বুঝতে পারবেন।

আর আপনার প্রশ্নের দ্বিতীয় অংশের জবাব দিতে গেলে বলতে হয়—তাঁদের সেই কালজয়ী আদর্শ, অর্থাৎ ‘বুদ্ধির মুক্তি’র কথা। এটি আসলে সেকালে ছিল এক ধরনের বুদ্ধিবৃত্তিক ‘শক ট্রিটমেন্ট’। কেন জানেন? কারণ এই আন্দোলনটির মূল ভিত্তিই ছিল অন্ধ বিশ্বাসের বদলে বিচারবুদ্ধির কষ্টিপাথরে সত্যকে যাচাই করা।

তাঁরা চেয়েছিলেন সমাজ যেন কোনো জরাজীর্ণ প্রথার কাছে মাথা নত না করে। নিজের বিবেক আর যুক্তি দিয়ে পথ চিনে নেয়। ‘শিখা’ নামের সেই বিখ্যাত পত্রিকার হাত ধরে প্রায় এক দশক ধরে এই আন্দোলনটি কী যে এক আলোড়ন তুলেছিল! সত্যি বলতে, শুধু সাহিত্য নয়, সেই সময়কার পুরো সমাজের জমাট বাঁধা ভিত নাড়িয়ে দেওয়ার এক প্রবল ক্ষমতা ছিল এই ‘বুদ্ধির মুক্তি’ আন্দোলনের। এটি যেন ছিল অন্ধকার ঘরে হঠাৎ এক ঝলক তীব্র আলো!

বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের পুরোধা ব্যক্তিত্বরা । ছবি: সংগৃহীত বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের পুরোধা ব্যক্তিত্বরা । ছবি: সংগৃহীত

প্রশ্ন: মুসলিম সাহিত্য সমাজের নবজাগরণ কি ডিরোজিওপন্থি নবজাগরণ নাকি এর প্রতিক্রিয়ায় সৃষ্টি? এর সাথে মুসলিম জাতীয়তাবাদের ধারণা কোনোভাবে সম্পর্কিত কিনা?

উত্তর: 
এটাকে ঠিক ‘অনুকরণ’ বলা যাবে না; বরং আমি বলব—প্রক্রিয়াটা অনেকটা কাকতালীয়ভাবে মিলে গেছে। আপনি যদি ইতিহাস দেখেন, ১৯ শতকের ডিরোজিয়ান বা ইয়ং বেঙ্গলরা হিন্দু সমাজের কুসংস্কারের মূলে কুঠারাঘাত করেছিলেন। আর ঠিক তার ১০০ বছর পর, ২০ শতকে এসে ‘শিখা’ গোষ্ঠী একই কাজটা করেছেন মুসলিম সমাজের জন্য। তবে ডিরোজিয়ানদের সাথে এদের একটা মৌলিক পার্থক্য ছিল—শিখা গোষ্ঠী সমাজকে ভাঙতে নয়, বরং আধুনিক যুক্তি দিয়ে গড়তে চেয়েছিল।

আর হ্যাঁ, আপনি যে অর্থে 'মুসলিম জাতীয়তাবাদে'র কথা বলছেন, আমি কিন্তু বিষয়টিকে সেভাবে দেখছি না। তাঁরা আসলে কোনো সংকীর্ণ বা সাম্প্রদায়িক জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী ছিলেন না। তাঁদের দর্শনটা ছিল অনেক গভীর। তাঁরা মনে-প্রাণে বিশ্বাস করতেন যে, মুসলমান সমাজ যদি বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে এগিয়ে না যায়, তবে কোনো রাজনৈতিক আন্দোলন বা চটকদার জাতীয়তাবাদই তাদের সত্যিকারের মুক্তি দিতে পারবে না।

সোজা কথায় বলতে গেলে, এই আন্দোলনটি মানুষকে ‘ভেতর থেকে বদলে দেওয়ার’ কথা বলেছিল। তাঁরা চেয়েছিলেন আগে মানুষের চিন্তার জগৎটা স্বাধীন হোক, তারপর আসবে রাজনৈতিক মুক্তি। সুতরাং একে গতানুগতিক জাতীয়তাবাদের ফ্রেমে বন্দি করাটা ভুল হবে।

প্রশ্ন: ‘শিখা’কে কেন্দ্র করে সেসময়ের কলকাতাভিত্তিক সাহিত্য সমাজের প্রতিক্রিয়া কেমন ছিল?

উত্তর: 
খুব চমৎকার একটা বিষয় জানতে চেয়েছেন। ‘শিখা’ যখন ঢাকা থেকে প্রকাশিত হচ্ছে, তখন কলকাতার শিক্ষিত ও প্রগতিশীল সাহিত্যিকরা একে রীতিমতো বিপুলভাবে স্বাগত জানিয়েছিলেন। এমনকি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজে এই আন্দোলনের খবর শুনে অত্যন্ত আনন্দিত হয়েছিলেন এবং এই তরুণদের মন খুলে উৎসাহ দিয়েছিলেন। শুধু কি তাই? শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় পর্যন্ত এই দলটির সাহসের ভূয়সী প্রশংসা করেছিলেন। আপনাদের হয়ত জানা আছে, শরৎচন্দ্র শুধু প্রশংসাই করেননি, তিনি ‘শিখা’র অধিবেশনে সশরীরে উপস্থিত থাকতেন এবং এই পত্রিকায় নিয়মিত লিখতেনও।

তবে মুদ্রার উলটো পিঠও ছিল। কলকাতার রক্ষণশীল মুসলিম সমাজ কিন্তু এই ‘শিখা’ বা বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনকে মোটেই সহজভাবে নেয়নি। তাঁরা মনে করেছিলেন, এই প্রগতিশীল তরুণরা বোধহয় ধর্মের অবমাননা করছে। ফলে খুব স্পষ্ট একটা মেরুকরণ বা বিভাজন আমরা লক্ষ্য করি—কলকাতার হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে প্রগতিশীলরা ছিলেন এই আন্দোলনের পরম মিত্র, আর রক্ষণশীল গোষ্ঠীটি ছিল এর ঘোর বিরোধী। এক কথায় বলতে গেলে, ‘শিখা’ তখন দুই বাংলার বুদ্ধিজীবী মহলে একটা প্রবল তর্কের ঝরনাধারা বইয়ে দিয়েছিল।

‘শিখা’য় কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা ‘শিখা’য় কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা

প্রশ্ন: বেশ স্পষ্ট ও শক্তিশালী আহ্বানের পরেও কেন মুসলমানদের মধ্যে চিন্তার জাগরণ সামাজিক পর্যায়ে ঘটেনি? ‘শিখা’র ব্যর্থতা কোথায়?

উত্তর:
 এটাকে আমি একটা ‘ঐতিহাসিক ট্র্যাজেডি’ হিসেবেই দেখি। শিখা গোষ্ঠীর ব্যর্থতার জায়গাটা যদি ব্যবচ্ছেদ করি, তবে প্রথমেই বলতে হয়—এটি মূলত ছিল একটি ‘এলিটিস্ট’ বা উচ্চশিক্ষিত গোষ্ঠীর আন্দোলন। তাঁদের ভাষা এবং যুক্তির যে দার্শনিক উচ্চতা ছিল, তা তৎকালীন সাধারণ কৃষিজীবী বা শ্রমজীবী মানুষের ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে গিয়েছিল।

তবে একটা কথা কিন্তু মানতেই হবে—আবুল হুসেনসহ এই গোষ্ঠীর অনেকের লেখাতেই কিন্তু অর্থনীতি, রাজনীতি বা সংস্কৃতিতে সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের অধিকার নিয়ে প্রচুর কথা হয়েছে। তাঁরা তাঁদের চিন্তায় সাধারণ মানুষকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছিলেন। কিন্তু সমস্যাটা হলো, সেই গভীর কথাগুলো সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্বটা আসলে কার ছিল? চিন্তাকে কর্মে পরিণত করার বা বড়ো কোনো পরিবর্তন আনার প্রধান দায়িত্ব তো রাষ্ট্রের, তাই না? সেখানে একটা বড়ো শূন্যতা ছিল।

আর সবচেয়ে বড়ো আঘাতটা এসেছিল ভেতর থেকে। সে সময়কার আলেম সমাজ আর রক্ষণশীল নেতারা কোনো গভীরে না গিয়েই এই আন্দোলনকে স্রেফ ‘নাস্তিকতা’ বলে দেগে দিয়েছিলেন। অথচ আপনি যদি তাঁদের মূল প্রবন্ধগুলো পড়েন, দেখবেন—তাঁদের কেউই কিন্তু কখনো কোরআন-সুন্নাহর বিরোধিতা করেননি। বরং তাঁরা চেয়েছিলেন ধর্মের নামে প্রচলিত কুসংস্কার আর অন্ধ অনুকরণ থেকে সমাজকে মুক্ত করতে।

একটা তিক্ত সত্য কথা বলি—আজকের দিনে দাঁড়িয়েও আমরা যেমন প্রগতিশীল চিন্তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার দেখি, শত বছর আগেও তারা ঠিক একই কাজ করেছিল। এই যে অপপ্রচার আর সাধারণ মানুষের সহজ-সরল ধর্মবিশ্বাসের ওপর ভর করে একটা ভয়ের পরিবেশ তৈরি করা—এটাই ছিল এই জাগরণ আটকে যাওয়ার প্রধান অন্তরায়।

প্রশ্ন: মাত্র পাঁচটি সংখ্যা প্রকাশ হওয়ার পর কেন ‘শিখা’ আর প্রকাশিত হলো না?

উত্তর:
 প্রধানত তিনটি কারণ ছিল—তীব্র সামাজিক চাপ, আর্থিক সংকট এবং নেতৃত্বের বিচ্ছিন্নতা। আমি একটু বুঝিয়ে বলি:

প্রথমত, আপনি কি ভাবতে পারেন আবুল হুসেনের মতো একজন খোলামন ও প্রজ্ঞাবান মানুষের ওপর কী পরিমাণ সামাজিক নিগ্রহ করা হয়েছিল? তিনি তো তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি ও বাণিজ্য বিভাগের শিক্ষক। অথচ কেবল ‘মুক্তচিন্তা’র অপরাধে তাঁকে সালিশ ডেকে রীতিমতো অপমান করা হয়েছিল। সেই অপমানে আর অভিমানে তিনি শেষ পর্যন্ত নিজের চাকরিটাই ছেড়ে দিলেন। সমাজ যখন তার সেরা সন্তানদের এভাবে অবহেলা ও অপমান করে, তখন তো প্রগতির মশাল নিভে যেতে বাধ্য।

দ্বিতীয় কারণটি ছিল নির্ভেজাল আর্থিক সংকট। ‘শিখা’ পত্রিকা চলত নিজেদের উদ্যমে। এখন আপনিই বলুন, কোনো শক্তিশালী রাজনৈতিক বা বাণিজ্যিক পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া কখনো কি দীর্ঘ মেয়াদে কোনো বুদ্ধিবৃত্তিক পত্রিকা চালানো সম্ভব? সেই আর্থিক চাপ সইতে না পেরেই একসময় ‘শিখা’র প্রকাশ বন্ধ হয়ে যায়।

আর আপনি যেটা ‘বিচ্ছিন্নতা’র কথা বললেন, সেটা নিয়ে অনেক বিতর্ক আছে। আসলে এই আন্দোলনের মূল কারিগররা তখন নানাভাবে কোণঠাসা। এই সংকটগুলো নিয়ে আলোচনা করতে গেলে রাষ্ট্রের সেই নেতিবাচক ভূমিকার প্রসঙ্গটিও চলে আসে, যা আমি আগেই ইঙ্গিত করেছি। ফলে সংগঠনের ভেতরেও এক ধরনের অসংলগ্নতা তৈরি হয়েছিল। এক কথায় বলতে গেলে—সামাজিক অসহিষ্ণুতা আর অভাবের সাঁড়াশি আক্রমণে এই ঐতিহাসিক শিখাটি অকালে নিভে গিয়েছিল।

প্রশ্ন: বর্তমানে নতুনভাবে ‘মুসলিম সাহিত্য’ প্রকল্পের প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যেখানে “আমাদের নজরুল”, “আমাদের মাহমুদ” বিপরীতে “তাদের ছায়ানট”, “তাদের রবীন্দ্রনাথ” এর মতো শব্দবন্ধের বারংবার ব্যবহার লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এই প্রেক্ষিতে কোনোভাবে ‘শিখা’ বা ‘মুসলিম সাহিত্য সমাজ’ এখনো প্রাসঙ্গিক?

উত্তর: আমি তো বলব, তাঁরা এখনকার সময়ে সবচেয়ে বেশি প্রাসঙ্গিক! দেখুন, বর্তমানে আমরা যখন সাহিত্যকে ‘আমাদের’ আর ‘তাদের’ বলে কৃত্রিম দেওয়াল তুলছি, তখন এই ‘শিখা’ গোষ্ঠীই আমাদের কানে কানে মনে করিয়ে দেয় যে—সাহিত্যের বা জ্ঞানের কোনো কাঁটাতার নেই, কোনো বিশেষ ধর্ম বা মানচিত্র নেই। আর্ট কিংবা কালচারকে আপনি কখনোই কোনো নির্দিষ্ট চারদেয়ালের খাঁচায় বন্দি করে রাখতে পারবেন না।

আপনি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ জনপদে নতুন করে ‘মুসলিম সাহিত্য’ তৈরির যে প্রবণতার কথা বলছেন—চিন্তা করুন, এটা যদি কেবল আত্মপরিচয়ের সংকীর্ণতা থেকে হয়, তবে তা হবে সরাসরি ‘বুদ্ধির মুক্তি’র পরিপন্থি। ‘শিখা’ আমাদের শিখিয়েছিল সত্যের আঙিনা অনেক বড়ো। জ্ঞান তো আসলে মহাকাশের মতো অসীম ও বিস্তৃত।

আর হ্যাঁ, সময় তো এগিয়ে চলে গ্রহণ আর বর্জনের মধ্য দিয়ে। একজন ‘দিলখোলা’ মানুষ বা একজন মুক্তচিন্তার মানুষ সবসময় জ্ঞান, ধর্ম, দর্শন, শিল্পকলা আর সত্য—এই সবকিছুর জন্যই উপকারী। তাই আজকের এই বিভাজিত আর মেরুকরণের সময়ে দাঁড়িয়ে নজরুলের সেই অসাম্প্রদায়িক চেতনা, কিংবা আবুল হুসেন ও কাজী আবদুল ওদুদদের সেই অটল যুক্তিবাদই পারে আমাদের সত্যিকারের আধুনিক ও বিশ্বনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে। তাঁদের সেই পুরোনো মশালটাই আমাদের বর্তমানের এই অন্ধকার কাটানোর জন্য সবচেয়ে বেশি জরুরি। 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন